Skip to content

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করার নিয়ম

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করার নিয়ম ভোটার আইডি কার্ড একটি দেশের নাগরিকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি বস্তু। ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া আপনি গণতান্ত্রিক দেশের ভোট দিতে পারবেন না। এছাড়া ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া আপনি একটি দেশের বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

ভোটার আইডি কার্ড তৈরি বা আবেদন করার সময় আমরা বিভিন্ন ধরনের ভুল করে থাকি অথবা যারা ভোটার আইডি কার্ডের ডাটা এন্ট্রি করে তারা বিভিন্ন সময়ে আমাদের তথ্য ভুল দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ভোটার আইডি কার্ডের নামের মধ্যে যদি কোন ধরনের ভুল থাকে তাহলে সেই ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে আপনি ভবিষ্যতে অনেক ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হবেন। তাই ভুল ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি।

আপনি চাইলে অনলাইনে অথবা আপনার নিকটস্থ নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন খুবই সহজ, যার কারণে যে কেউই ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে পারে।

তাহলে চলুন আমরা আর কথা না বাড়িয়ে কিভাবে ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করবেন সে বিষয়ে জেনে আসি।

আরো দেখে আসতে পারেনঃ

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি ২০২২

অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন

আপনি চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার ঘরে বসেই ভোটার আইডি কার্ডের সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। আপনি চাইলে আপনার নিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করতে পারেন।

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করার নিয়ম

১. প্রথমে আপনারা নির্বাচন কমিশন অফিসের অফিসের ওয়েবসাইট এ (http://services.nidw.gov.bd/) চলে যান।

২. সেখানে যাওয়ার পরে আপনার যদি অ্যাকাউন্ট থাকে তাহলে আপনার ইউজারনেম অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। আর যদি একাউন্ট না থাকে তাহলে রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করুন।

৩. রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করার পরে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর এবং জন্ম তারিখ সহ অন্যান্য জরুরি ডিটেলস গুলো পূরণ করতে বলবে, সেগুলো সঠিকভাবে পূরণ করে সাবমিট করুন। মোবাইল নাম্বারটি অবশ্যই সচল রাখবেন, কারণ আপনার মোবাইল নম্বরে একটি ভেরিফিকেশন কোড যাবে যে কোড ছাড়া আপনি লগইন করতে পারবেন না।

৪. রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

৫. লগইন করার পরে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিটেলস গুলো দেখতে পাবেন। আর যদি আপনি সম্পূর্ণ ডিটেইলস দেখতে চান তাহলে “বিস্তারিত প্রোফাইল” অপশনে ক্লিক।

৬. ঠিক করার পরে আপনি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের সকল ডিটেলস দেখতে পাবেন। এখন আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করতে চান তাহলে উপরের ডান পাশে “এডিট” অপশনে ক্লিক করুন।

৭. এডিট অপশনে ক্লিক করার পরে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সকল ডিটেলস পরিবর্তন করার সুযোগ দিবে।

৮. আপনার যে বিষয়ে ভুল আছে সেই বিষয়টি সঠিকভাবে পূরণ করুন। ধরুন আপনার যদি নামে ভুল থাকে তাহলে আপনার নামের উপরে একটি টিক চিহ্ন দেখতে পাবেন, সেটাতে ক্লিক করে আপনার নামটি সঠিকভাবে পূরণ করুন।

৯. আপনার ডিটেলস গুলো সঠিকভাবে পূরণ করার পরে “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করুন।

১০. এখন আপনাকে জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি প্রদান করতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন ফি আপনি চাইলে আপনার মোবাইল ব্যাংকিং যেমন বিকাশ বা নগদ এর মাধ্যমে প্রদান করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটে যত টাকা প্রদর্শন করছে ঠিক ততটাই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পে করুন।

১১. আপনি সঠিকভাবে পেমেন্ট করার পরে আপনাকে পরবর্তী অপশনে যেতে দিবে।

১২. আপনি যদি সঠিকভাবে পেমেন্ট করেন তাহলে পরবর্তী অপশনে ক্লিক করুন এবং আপনার সংশোধনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি সার্ভারে আপলোড করুন। যেমন আপনি যদি আপনার নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এর বাংলা এবং ইংরেজি কফির স্ক্যান কপি সার্ভারে আপলোড করুন। আপনার যদি এই দুটি না থাকে তাহলে আপনি আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট এর স্ক্যান কপি আপলোড করতে পারেন।

১৩. কাগজপত্রে স্ক্যান কপি আপলোড করার পরে আপনি “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক।

১৪. এই পর্যায়ে আপনি যে বিষয়গুলো সংশোধন করেছেন এবং যে কাগজপত্রগুলো আপলোড করেছেন সেগুলোর প্রিভিউ দেখাবে। আপনার সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে “সাবমিট” অপশনে ক্লিক করুন।

১৫. সাবমিট অপশনে ক্লিক করার পরে আপনাকে একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করতে বলবে। সেটি সঠিক ভাবে ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন। কোন কারণে যদি আপনি সেই পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করতে না পারেন, তাহলে পরবর্তীতে আপনি জাতীয় পরিচয় পত্রের ওয়েবসাইটে লগইন করে উপরে ডাউনলোড অপশন পেয়ে যাবেন। সেখান থেকেও ডাউনলোড করতে পারেন।

এই আবেদনের ফরম টি অবশ্যই সংরক্ষণ করবেন। কারণ যদি নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে আপনাকে কোন কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকানো হয় তাহলে আপনাকে এই আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করে সাথে নিয়ে যেতে হবে। এই আবেদন ফরমের সাথে অবশ্যই আপনি যে কাগজপত্রগুলো স্ক্যান কপি আপলোড করেছেন সে কাগজপত্রগুলো সাথে নিয়ে যাবেন।

আরো দেখে আসতে পারেনঃ

নতুন ভোটার আইডি কার্ড  বের করার নিয়ম

নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম সংশোধন

আপনি যদি অনলাইনে মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম সংশোধন করতে না চান তাহলে আপনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম সংশোধন করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করার জন্য সেখান থেকে ফরম 2 সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহকারে জমা দিলেই আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নাম সংশোধনের আবেদন হয়ে যাবে। তারপরে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে আপনার তথ্যগুলো ভেরিফিকেশন করে তারা আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধন করে দেবে।

জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের কি কি লাগে

ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করার নিয়ম

১. শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট: আপনার যদি শিক্ষাগত যোগ্যতা যেমন এসএসসি বা এসএসসির সার্টিফিকেট থাকে তাহলে সেগুলো একটি কপি জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের সময় লাগবে। আর যদি এগুলো না থাকে তাহলে অসুবিধা নেই।

২. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন: আপনি যদি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার অনলাইন জাতীয় পরিচয় পত্রের বাংলা এবং ইংরেজি কপি লাগবে। বাংলা এবং ইংরেজি কপি আপনি আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ বা কাউন্সিলর অফিস থেকে পেয়ে যাবেন। আপনার যদি পুরনো জন্ম নিবন্ধন হয় তাহলে অবশ্যই সেটা কে আগে অনলাইন করে নেবেন তারপরে তার কপি জমা দেবেন।

৩. কাবিননামা: আপনি যদি আপনার স্বামী বা স্ত্রীর নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার কাবিননামার একটি কপি লাগবে। কাবিননামা ছাড়া আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র স্বামী বা স্ত্রীর নাম পরিবর্তন করতে পারবেন না।

৪. চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট: যদি আপনি আপনার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে চান (যেমন: রহিম উদ্দিন থেকে করিম খান) তাহলে অবশ্যই আপনার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট লাগবে। আর যদি আপনি সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভায় থাকেন, তাহলে অবশ্যই সেখানকার কাউন্সিলর এর সার্টিফিকেট লাগবে। তাছাড়া আপনি আপনার সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তন করতে পারবেন না।

৫. বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস বিল: আপনি যদি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ঠিকানা বা ভোটার এরিয়া পরিবর্তন করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার বিদ্যুৎ বিল অথবা গ্যাস বিলের একটি কপি লাগবে। যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারেন। আপনি যদি নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করেন তাহলে আপনার কোন ধরনের টাকা খরচ হবে না।

বন্ধুরা আশা করি আজকের পোস্ট এর মাধ্যমে আপনারা জাতীয় পরিচয় পত্র নাম সংশোধনের সমাধান পেয়েছেন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

আরো দেখে আসতে পারেনঃ

ভোটার লিস্ট বের করার নিয়ম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *